বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৩০ শিশু পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে। শিশুদের সুরক্ষা, প্রারম্ভিক বিকাশ এবং প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সতর্ক বার্তাটি উঠে এসেছে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পরামর্শ সভায়, যেখানে মিডিয়া নীতিনির্ধারক ও গেটকিপারদের সঙ্গে শিশু সুরক্ষা ও প্রারম্ভিক বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মীর মাসরুরুজ্জামান বলেন, “একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে শিশুদের হাত ধরে। শিশুদের সুরক্ষা ও বিকাশ নিশ্চিত করা শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতা নয়, এটি টেকসই রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত।” তিনি জানান, গর্ভকাল থেকে শুরু করে শিশুর জন্ম ও বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে সুরক্ষা ও বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
সভায় তুলে ধরা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সাঁতার শেখার বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় ৩০ শিশু এবং সাঁতার শেখার বয়স পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় ৪০ শিশুর মৃত্যু হয় পানিতে ডুবে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার কমিউনিটি ভিত্তিক শিশু যত্ন কেন্দ্র ও সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নিলেও প্রকল্পটির ধারাবাহিকতা প্রাথমিক ধাপ শেষে ব্যাহত হয়েছে।
সিনারগোসের সিনিয়র প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট রিজওয়ানুল হক খান জানান, প্রথম ধাপে দুই লাখের বেশি শিশু সেবা পেয়েছে এবং প্রায় ৫০০ শিশু সফলভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০ জেলার ৭৯ উপজেলায় কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় সাত লাখ শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ এবং তিন লাখ শিশুকে কমিউনিটি চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের আওতায় আনা হবে।
সভায় মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। রিজওয়ানুল হক খান বলেন, “শিশুবান্ধব সাংবাদিকতা শুধু শিশুদের জন্য নয়, এটি জাতি গঠনেরও গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। একটি প্রতিবেদন নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।” এতে শিশু সুরক্ষা, প্রারম্ভিক বিকাশ এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে ধারাবাহিক এবং সমাধানমুখী সাংবাদিকতার গুরুত্ব পুনরায় উঠে এসেছে।