ভেনিজুয়েলায় গত বুধবার সন্ধ্যায় সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্প দেশটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। রাজধানী কারাকাস এবং আশেপাশের অঞ্চলে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের ফলে হাজার হাজার ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে, যার নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে আছে। উদ্ধারকর্মীরা প্রাণের সন্ধানে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে নিখোঁজদের বেঁচে থাকার আশা খুবই ক্ষীণ। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা এখন ১,৭০০ ছাড়িয়েছে।
উদ্ধারকারীরা ভবনের ভগ্নাংশ থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধারে সক্ষম হলেও ধ্বংসস্তূপের বিস্তীর্ণতার কারণে পুরো কার্যক্রম ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের চারপাশে পচা লাশের দুর্গন্ধ তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রিয়জনের খোঁজে এখনও অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের পাশে অবস্থান করছেন। মিরেল্লা হেরেরা তার ছেলের ধ্বংসস্তূপের পাশে দিনরাত অপেক্ষা করছেন। তিনি জানান, “এই অপেক্ষা পাগল করে দেয়। আমি নিজেকে সুস্থ রাখতে পানি খাচ্ছি, হাঁটছি। আশা করি তারা বেঁচে থাকলে সাহায্যের জন্য চেষ্টা করছে।”
ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ভূমিকম্পকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দেশবাসীর কাছে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের ২৫,০০০-এর বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনা সদস্য ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তায় নিয়োজিত। প্রতিটি জীবন বাঁচানোকে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি ও স্থানীয় সহায়তা এখনো পর্যাপ্ত নয়, ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার মূলত স্থানীয় জনগণের ওপর নির্ভর করছে। লা গুয়াইরা বন্দরের বাসিন্দারা হাতুড়ি, শাবল ও কোদাল ব্যবহার করে আহত ও আটকে থাকা মানুষকে বের করার চেষ্টা করছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবির স্থাপন করা হয়েছে।
উদ্যোগের অংশ হিসেবে রংভিত্তিক সংকেত পদ্ধতি ব্যবহার করে নির্ধারণ করা হবে, কে কখন নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সহায়তা ও স্থানীয় সম্পদের সমন্বয়ে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, তবে জীবন রক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।
ভয়াবহ এই ভূমিকম্প দেশটির নাগরিকদের মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে উদ্ধার তৎপরতা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম চলমান। যদিও মৃতের সংখ্যা ১,৭০০ ছাড়িয়েছে, তবে আশেপাশের ভবনের ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকা বহু মানুষকে বাঁচানোর জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।