ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ কর্মসূচি শুরু হয় বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিশ্চিত করেছে।
শেষ বিদায়ের এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকা শোকাহত মানুষের ঢলে পরিণত হয়। হাজার হাজার মানুষ ভোর থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন। অনেকেই কয়েক কিলোমিটার হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
অনুষ্ঠানস্থলে মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকা কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শোকাহতরা হাতে লাল পতাকা নিয়ে উপস্থিত হন, যা ইরানে প্রতীকীভাবে প্রতিশোধ ও প্রতিবাদের চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ সময় অনেকে ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’—এ ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা যায়, খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা ছয় দিনব্যাপী চলবে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন শহরে শোকসভা, শোভাযাত্রা এবং স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ইরাকেও একটি শোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথম ধাপে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে মরদেহ আনার আগে থেকেই সেখানে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। শহরজুড়ে যান চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, যাতে জনসমাগম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালিত হতে পারে।
আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অনুষ্ঠান শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য নয়, বরং ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই দেশজুড়ে ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারি ও ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শোকের পাশাপাশি রাজনৈতিক আবহও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে অনুষ্ঠানের পরিবেশে। বিশেষ করে জনতার স্লোগান ও প্রতীকী আচরণ ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আবেগকেও প্রতিফলিত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির শেষ বিদায়ের এই আয়োজন ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতি ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ছয় দিনের এই কর্মসূচি শেষ হলে তাকে দাফন করা হবে নির্ধারিত স্থানে।