পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান ‘অপারেশন শাবান’-এ ‘ভারত-সমর্থিত’ ৪৩ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযান মূলত পুলিশ স্টেশনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় চালানো হয়। হামলাকারীরা পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে বেশ কয়েকজন জিম্মি করে। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্কভাবে অভিযান পরিচালনা করে, যাতে জিম্মিদের নিরাপত্তা বজায় থাকে।
পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। বেলুচিস্তান পুলিশের সঙ্গে ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী অংশ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানের আগে হামলাকারীরা কয়েকজন পুলিশকে জিম্মি করে রাখে। তবে অভিযানের মাধ্যমে ১৭ জন নতুন সশস্ত্র হামলাকারী নিহত হওয়ায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ জনে দাঁড়ায়।
আইএসপিআর-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, প্রাথমিক সংঘর্ষে পুলিশ সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এই সংঘর্ষে ১৫ জন হামলাকারী নিহত হয় এবং ৯ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারায়। এরপর অভিযান চলাকালে আরও ২৬ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়। এছাড়া হেলিকপ্টার অভিযানে আরও ৫ থেকে ৬ জন নিহত হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্র আরও জানিয়েছে, খুজদারের একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে। এছাড়া মাঙ্গি বাঁধ পুলিশ স্টেশনে হামলার পর যৌথ বাহিনী আরও তৎপর হয়ে অভিযান চালায়। ৬ জুলাই থেকে জিয়ারাত জেলার পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চলছিল। অবরোধ আরও শক্ত হলে হামলাকারীরা ১৮ জন জিম্মি পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে।
জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সশস্ত্র হামলাকারীরা ‘ভারত-সমর্থিত’ বলে নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে। অভিযানের লক্ষ্য ছিল স্থানীয় পুলিশ চৌকিতে হামলার প্রতিক্রিয়ায় এবং সন্ত্রাসী চক্র নির্মূল করা। অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনী স্থানীয় বাসিন্দাদের এবং জিম্মিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে।
মোটকথা, ‘অপারেশন শাবান’ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী এ পর্যন্ত ৯১ জন সশস্ত্র ব্যক্তি দমন করেছে। এই অভিযান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সন্ত্রাসী হামলা প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।