ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারক কার্যত শেষ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বক্তব্যের পর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, একপাক্ষিক চুক্তির যুগ শেষ। রোববার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে গালিবাফের বক্তব্যের তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ বলেন, “একপাক্ষিক চুক্তির যুগ শেষ। আমরা আপনাদের বলেছিলাম, কথা রাখুন, নইলে মূল্য দিতে হবে। বাস্তবতা দরজায় কড়া নাড়ছে।” পোস্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের একটি ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে। ওই অনুচ্ছেদে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পোস্টে এই অংশটি বিশেষভাবে হাইলাইট করা হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তৃতীয় দফায় পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ বেড়েছে এবং নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
ইরান আরও জানিয়েছে, কিছু জাহাজ ‘অননুমোদিত পথে’ নৌপথ অতিক্রমের চেষ্টা করেছে। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য বার্তা দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই ধরনের কার্যকলাপের প্রেক্ষিতে ইরান তার নৌ-সীমা রক্ষা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য দৃঢ় অবস্থান নেবে।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও নৌপথ নিরাপত্তার ওপর এই উত্তেজনা সরাসরি বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত হরমুজ প্রণালির কার্যকর বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনকে প্রভাবিত করতে পারে।
গালিবাফের হুঁশিয়ারি স্পষ্ট করে যে, ইরান একপাক্ষিক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ এবং ভবিষ্যতে যে কোনো অমিল বা সীমাহীন নৌপথ ব্যবহারকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই উত্তেজনা চলতে থাকলে সমুদ্রপথ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা আরও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।