মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলা জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় আরও একজন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে স্বাভাবিক রাখতে এই অভিযান চালিয়েছে। হামলার সময় কোনো হতাহতের ঘটনা বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলার তথ্যও পাওয়া গেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে তাদের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সম্প্রতি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারা সংঘাত বাড়াতে চায় এবং এর জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইরানের বীর জাতি এবং রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট শত্রুদের ভুলতে না পারার মতো জবাব দিতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাহরাইন, সৌদি আরব ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পুরোদস্তুর যুদ্ধের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রাখা হয়েছে। তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, নিহত সেনাদের আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে দৃঢ় করবে।
এক মাস আগে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা তীব্র আকার নিয়েছে। এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এই সংঘর্ষে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৬-এ পৌঁছেছে। আহত হয়েছে ৪২০-এরও বেশি সেনাসদস্য। পরিস্থিতি অনিরাপদ, তাই স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় চলাচল থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।