হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের ফলে উভয় ট্যাংকারে ব্যাপক আগুন লেগেছে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দলগুলো ট্যাংকারে থাকা ক্রুদের নিরাপদে উদ্ধার করেছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনা ঘটেছে কারণ ট্যাংকার দুটি প্রণালির ‘দক্ষিণঘেঁষা অনিরাপদ অংশ’ দিয়ে চলার চেষ্টা করেছিল। আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী সকল জাহাজকে সতর্ক করে দিয়েছে, মার্কিন বাহিনীর দেওয়া ‘মিথ্যা তথ্য’ বিশ্বাস না করার নির্দেশ দিয়েছে এবং বিপজ্জনক হিসেবে উল্লেখিত নৌপথ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
আইআরজিসি আরও বলেছে, যত দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অপকর্ম চলবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল সীমিত রাখা হবে। এই অঞ্চলের তেল-গ্যাস বা রাসায়নিক সামগ্রী রপ্তানি করা হবে না। এই পদক্ষেপ ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সোমবার রাতের ধারাবাহিক অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। অভিযানে ইরানের বিভিন্ন সামরিক কমান্ড কেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা লক্ষ্য করা হয়েছে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অভিযানের লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সামরিক হামলার সক্ষমতা সীমিত করা।
হরমুজ প্রণালির এই দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক জলসীমায় উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সামরিক উপস্থিতি এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে। আইআরজিসি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তার দিকেও নজর রাখছে।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি এবং প্রণালির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।