যুক্তরাষ্ট্র টানা ১১তম রাতেও ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য ইরানের হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষমতা হ্রাস করা। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযানে ইরানের সামরিক অপারেশন কেন্দ্র, নৌঘাঁটি, যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, ড্রোন গুদাম ও সামরিক সরবরাহের অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, গত তিন মাসে ইরান হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে চলাচলকারী ৩০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে শত শত নাবিক ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। তবে সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি এখনও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে। মে মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী প্রায় ৯০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ৪৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিরাপদে পারাপারে সহায়তা করেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ব্যয় প্রায় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ হামলা চালানো হতে পারে। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই সম্ভাব্য হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত বৃদ্ধি করতে সতর্ক করেছে।
ইরানের সরকারি মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে। তারা যুদ্ধ ও কূটনীতি—উভয়কেই জাতীয় স্বার্থ রক্ষার উপায় হিসেবে বিবেচনা করছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বারবার জানিয়েছি, আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। তবে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চললে, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জবাব দেবে।’
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ কারণে, মার্কিন হামলা এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা এলাকায় বাণিজ্য ও নৌপরিবহনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপ এবং মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই সংঘাত কৌশলগতভাবে আরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।