ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সোমবার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এটি মার্কিন জনগণের জন্য বড় মাইলফলক এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রথম পদক্ষেপ।
ভ্যান্স জানান, গত সপ্তাহের নড়বড়ে যুদ্ধবিরতিকে বিস্তৃত শান্তি চুক্তিতে রূপ দিতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা এগিয়ে যাওয়ায় তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন।
তার ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর ইরানি পক্ষ আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল। তবে স্থানীয় সময় রাত ১টার পরও বৈঠক চলেছে এবং বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় ছিলেন। ভ্যান্স দাবি করেন, ট্রাম্পের বক্তব্য আলোচনাকে ব্যাহত করেনি।
বুধবার ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে সই হওয়া যুদ্ধবিরতি স্মারকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে কঠিন বিরোধ মেটাতে ৬০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুতের ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচল।
ভ্যান্স বলেন, হরমুজ প্রণালি এখনও উন্মুক্ত রয়েছে। রোববারের আলোচনায় এটি খোলা রাখার জন্য একটি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরান কোনো টোল আরোপ করলে তা মানা হবে না বলেও জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।যুদ্ধবিরতির শর্তে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের কথা থাকলেও ইসরায়েল এই চুক্তির পক্ষ নয়। নেতানিয়াহু সরকার সমঝোতার সমালোচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পাশাপাশি ইসরায়েল, লেবানন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে।
ভ্যান্স আরও জানান, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হতে পারে। ২০১৫ সালের ওবামা আমলের পারমাণবিক চুক্তি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল এই সংস্থার। ২০১৮ সালে ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন। এরপর ইরান কিছু স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির ৬০ দিনের মেয়াদে ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, পরিদর্শন ব্যবস্থা ফিরলে আলোচনার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়তে পারে। তবে ইউরেনিয়াম মজুত, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, লেবাননের সংঘাত এবং হরমুজে জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা—এসব প্রশ্নের সমাধান না হলে চূড়ান্ত চুক্তি এখনও অনিশ্চিত থাকবে। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহের আলোচাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে এখন। কূটনৈতিকভাবে।