উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন ও কুয়েত চলতি মাসের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশ নীরবভাবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে ইরানের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ছিল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণের স্থাপনাগুলো এবং অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো।
এটি তেহরানের বিরুদ্ধে বাহরাইন ও কুয়েতের প্রথম প্রত্যক্ষ সামরিক অভিযান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং আকাশ সহায়তা দিয়ে এ অভিযানে ভূমিকা রাখে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান মোকাবিলায় আরব দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ছে।
প্রতিবাদ ও উত্তেজনার মধ্যেও, বাহরাইন ও কুয়েতের বিমানবাহিনী তুলনামূলকভাবে ছোট এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে তৈরি যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরশীল। তবে তারা ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি নিয়েও নীরবে অভিযান চালায়। গত কয়েক সপ্তাহে ইরানও বাহরাইন ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা পরিচালনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮ জুলাই ঘোষণা করেছিলেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ কার্যকর নয়, ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলমান।
এ ঘটনায় অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাহরাইন ও কুয়েতের সরকারি পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক ভারসাম্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রথমবারের হামলা দুই দেশের জন্য সামরিক ও কূটনৈতিক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকনির্দেশক হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য, পূর্ববর্তী দুই সপ্তাহে ইরান হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের এবং অন্যান্য দেশের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বাহরাইন ও কুয়েতের এই অভিযান আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতার জন্য কূটনৈতিক সংলাপ জরুরি হয়ে উঠেছে।