ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। তিনি শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের মূল কারণ নিট (ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং চলমান ছাত্র আন্দোলনের চাপ।
পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান উল্লেখ করেছেন, গত ১০ দিনের ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তিনি বলেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত সম্মান বা ভাবমূর্তির নয়; দেশের শিক্ষার্থী ও তরুণদের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্ন। দেশের গণতন্ত্র এবং তরুণদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি তার অটল বিশ্বাস রয়েছে। তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন যাতে তরুণদের শক্তি বিভ্রান্তির জালে আটকা না পড়ে এবং কোনো রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে।
জুন মাসের শুরুতে সিজেপি নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। ২০ জুলাই আন্দোলন বড় আকার ধারণ করে, হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবী দিল্লির যন্তর মন্তরে সমবেত হয়ে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দেন। আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিট পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
দিল্লি ছাড়াও মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও সংহতি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনের সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কিছু সংঘর্ষ হয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।
নিট পরীক্ষা ও অন্যান্য অনিয়মকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয় এবং দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। আন্দোলন শুধু নিট পরীক্ষার অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা ও দেশের তরুণদের সমস্যার সমাধানও দাবির অংশ।
ধর্মেন্দ্র প্রধান বিদায়ের সময় প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সহকর্মী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের সেবা সবসময় তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল এবং ভবিষ্যতেও দেশের তরুণদের কল্যাণে কাজ করে যাবেন।