ইরান বুধবার (২৮ জুন) দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত আটটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগের হামলার জবাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি সূত্রে বলা হয়েছে, হামলায় কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটি এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরের মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের ঘাঁটি লক্ষ্য করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।
এই হামলার ঘটনার পটভূমি ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকের পরে দুই দেশের মধ্যে চলা পাল্টাপাল্টি হামলার সঙ্গে যুক্ত। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরণের হামলা কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ চেইনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে এ ধরনের সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্যকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রাখে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক মনিটরিং সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, এ ধরনের সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় আরও জটিলতা ও সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই হামলা এবং তার পরে উত্তেজনা পরিস্থিতি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশের প্রতিক্রিয়ার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
এই ঘটনায় কুয়েত ও বাহরাইনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মার্কিন ঘাঁটিগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়া, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে হামলার ভিডিও ফুটেজ ও বিবরণ ছড়িয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট করতে সহায়ক হবে।