পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী, যার ফলে অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন। এই অভিযান সীমান্তে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম মোকাবিলা এবং সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সীমান্ত এলাকায় আগে থেকেই পরিকল্পিত স্থল অভিযান এবং সমন্বিত হামলা চালানো হয়। অভিযানটি খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান এবং করাচি অঞ্চলে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে সম্প্রতি বেসামরিক মানুষ ও পাকিস্তান রেঞ্জার্সের বিভিন্ন ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছিল।
গত শনিবার (২৭ জুন) গভীর রাতে করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় পাকিস্তান সিন্ধ রেঞ্জার্সের প্রাদেশিক সদর দপ্তরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আধাসামরিক বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হন। হামলায় অংশ নেওয়া তিন হামলাকারীও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছে।
সিন্ধ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাভেদ আলম ওধো জানান, হামলাকারীরা একটি গাড়ি নিয়ে সদর দপ্তরের প্রধান ফটকে আঘাত করে। ঘটনার শুরুতে বিস্ফোরণ হয়েছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার পর বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট, সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী এবং রেঞ্জার্স সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছেন।
পুলিশ সার্জন সুমাইয়া সৈয়দ জানিয়েছেন, হামলায় আহত আধাসামরিক বাহিনীর একজন সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পায়ে গুলি লেগেছে। এই অভিযান সীমান্তে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই সামরিক অভিযান পাকিস্তান সরকারের লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করছে, যাতে সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাস ও হানাহানি কমিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া, অভিযানটি পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং আগামি সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হবে।