ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপের প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটলেও আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি হওয়া সম্ভাবনার আশায় বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের আগস্ট সরবরাহ চুক্তির দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৪০ ডলারে নেমে আসে, যা আগের দামের তুলনায় ৭৫ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৩ শতাংশ কম। এছাড়া বেশি লেনদেন হওয়া ব্রেন্টের সেপ্টেম্বর সরবরাহ চুক্তির দাম ৪০ সেন্ট বা ০ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ৪৭ সেন্ট বা ০ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ৩২ ডলারে নেমেছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সম্ভাব্য আলোচনার খবর তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য দোহা বৈঠক দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। ফলে বিশ্বের প্রধান তেল ক্রেতা ও বিক্রেতারা মূল্য নির্ধারণে আরও সচেতন হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে স্বল্পমেয়াদি দাম কমে গেলেও লং টার্মে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর দাম নির্ভর করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং তেলের বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
এই হ্রাসের ফলে তেলের ক্রেতাদের ব্যয় সাময়িকভাবে কমবে, যা জ্বালানি খাতে স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।