ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ বুধবার (১ জুলাই) সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বেনজীর ১১ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন করেছেন। আদালতে আজ ছয়জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষের কোনো জেরার সুযোগ হয়নি। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ১৬ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। চার্জশিটে বলা হয়েছে, বেনজীর তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ অস্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু তদন্তে পাওয়া যায়, তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এই হিসেবে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে ৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা দেখানো হলেও ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বেনজীর এই সম্পদকে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি সংস্থায় গোপনভাবে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন। এর ফলে মোট জ্ঞাত আয়ের বাইরে অর্জিত সম্পদ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকার বেশি।
দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, অভিযোগ গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশা করেন, বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং যথাযথ শাস্তি প্রদান করা হবে।
এই মামলার ধারাবাহিকতা ও সাক্ষ্যপ্রদানের মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে, সাবেক আইজিপির সম্পদের অমিল ও গোপন বিনিয়োগ বিষয়ক অভিযোগের ভিত্তি শক্ত। আগামী ১৬ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া এগোবে। এটি বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা প্রবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।