ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ প্রভাবশালী অফিসারদের তুলনায় প্রফেশনাল ও দক্ষ অফিসারদের গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পুলিশের কার্যক্রমে দক্ষতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা সবচেয়ে বড় মূল্যায়নযোগ্য মানদণ্ড, যা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সহায়ক হবে।
সোমবার ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে জুন-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় কমিশনার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে অনেক প্রভাবশালী অফিসার রয়েছেন। তবে পুলিশের কার্যক্রম ও জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে যারা পেশাদার এবং দায়িত্বশীল, তাদেরকেই মূল্যায়ন করা হবে।” তিনি আরও বলেন, জনসাধারণের জানমাল রক্ষা, পুলিশ হামলার শিকার হলে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনার অফিসারদের নির্দেশ দেন, অবৈধ অস্ত্র, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। থানা এলাকায় কোনো ধরনের অপরাধ যাতে সংঘটিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার প্রদান করা হবে, এবং দায়িত্বে অবহেলা বা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় জুন মাসের শ্রেষ্ঠ বিভাগের স্বীকৃতি মিরপুর বিভাগ পায়। পল্লবী থানা শ্রেষ্ঠ থানার স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তুরাগ থানা ও শাহজাহানপুর থানার অবস্থান যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন ডেমরা জোনের এএসপি মো. শামীম হোসেন, এবং দ্বিতীয় স্থান পেয়ে যান মোহাম্মদপুর জোনের এএসপি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে আদাবর থানার এসআই তরুণ কুমার প্রথম এবং পল্লবী থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। এএসআই পর্যায়ে যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই মো আখতারুজ্জামান মণ্ডল পলাশ প্রথম এবং মিরপুর থানার এএসআই মো আনারুল ইসলাম দ্বিতীয় হয়েছেন।
গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে ডিবি-লালবাগ শ্রেষ্ঠ ইউনিট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ডিবি-ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম শ্রেষ্ঠ টিম লিডারের স্বীকৃতি পান। ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগ শ্রেষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃত হয়। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্টের তালিকায় দারুস সালাম ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. দেলোয়ার হোসেন প্রথম এবং গুলশান ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. আশরাফুল ইসলাম দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুরস্কার প্রদান কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে, যা পুলিশি কার্যক্রমের দক্ষতা ও জনসেবার মান বৃদ্ধি করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগে পুলিশ সদস্যরা আরও পেশাদার, দায়িত্বশীল ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিতভাবে কাজ করবে।
সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত ছিলেন।