নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্র জানায়, বিচার শুরু হওয়ার মাত্র আট কার্যদিবসের মধ্যে এবং মামলা হওয়ার ২৬ দিনের মাথায় রায় দেওয়া হলো। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, শিশুধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ শিশুর শুধু শারীরিক ক্ষতি করে না; তার মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও স্বাভাবিক জীবনকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব বলেও আদালত উল্লেখ করেন।
ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদুল আলম চৌধুরী বলেন, দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৯ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। এর আগে পাঁচ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করে ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে বাকলিয়া থানা পুলিশ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২১ মে বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকা থেকে মনির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ২২ মে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, তদন্তে মেডিক্যাল রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। গ্রেফতারের সময় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত তদন্ত, অভিযোগপত্র ও বিচার শেষ হওয়ায় এই রায় শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এর আগে আসামিকে গ্রেফতারের সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। পরে কৌশলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। একই দিনে চট্টগ্রাম আদালতে আরেক আলোচিত শিশুহত্যা মামলার রায়ও ঘোষণা হয়। আইনজীবীরা বলছেন, এমন দ্রুত বিচার ভুক্তভোগী পরিবারের আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। সমাজেও কঠোর সতর্ক বার্তা পৌঁছাবে বলে মনে করেন।