হাইকোর্ট বাংলাদেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রোভাইডারদের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ সংক্রান্ত প্রশ্নে রুল জারি করেছে। রুলে বলা হয়েছে, বিকাশ, নগদ ও রকেটের গ্রাহক থেকে নেওয়া স্বেচ্ছাচারী বা অতিরিক্ত চার্জ অবৈধ, অসাংবিধানিক বা আইনবিরোধী ঘোষণা করা হবে না। আদালত একই সঙ্গে জানতে চেয়েছে, এমএফএস সার্ভিস চার্জ, ভোক্তা সুরক্ষা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য কোনো নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে কি না।
এই রুলের উদ্দেশ্য হলো বিশেষত দরিদ্র ও ব্যাংকিং সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তিসঙ্গত, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী সার্ভিস চার্জ নিশ্চিত করা। আদালতে রিটের শুনানিতে অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহ আল মামুন সাকিব উপস্থিত ছিলেন। হাইকোর্টের বেঞ্চে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. রেজাউল করিম ছিলেন।
আদালত রুলে অর্থ মন্ত্রণালয় সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের নজরদারি থাকায় গ্রাহক এবং এমএফএস প্রোভাইডারদের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা সহজ হবে।
প্রসঙ্গত, এমএফএস সার্ভিস চার্জের বিষয়ে দেশের বিভিন্ন মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও বিতর্ক চলছিল। বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠী মোবাইল ব্যাংকিংয়ে স্বাচ্ছন্দে লেনদেন করতে পারছেন কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। হাইকোর্টের এই রুলের মাধ্যমে সরকারি ও প্রাইভেট সংস্থা উভয়েই নির্দেশিত নিয়ম ও নীতি অনুসরণ করে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে বাধ্য থাকবেন।
ফলস্বরূপ, বিকাশ, নগদ ও রকেট গ্রাহকদের জন্য পরিষেবা আরও স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য এবং সহজলভ্য হবে। এটি ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণের পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি শক্তিশালী করবে।