সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। হত্যা, অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, অপরাধের গ্রাফ আকাশচুম্বী হয়েছে।
সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৭১ বিধিতে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। বক্তব্যের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর খালি আসনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করেছিলেন, কিন্তু তার আসন খালি। তাই তার অনুপস্থিতিতেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের একটি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে রুমিন দাবি করেন, সরকারের প্রথম ১০০ দিনে অপরাধ ভয়াবহভাবে বেড়েছে। তার ভাষ্যমতে, শুধু মার্চ ও এপ্রিল মাসেই দেশে ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি। চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি।
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। রুমিন ফারহানা বলেন, আলোচিত সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৪৯৬টি। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ থেকে ১০২ জন, গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ৪৯ থেকে ৭১ জন।
তিনি বলেন, সরকারের সফলতা বা ব্যর্থতার বড় অংশ নির্ভর করবে অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। তার মতে, এই দুই খাতেই সরকারের ৫০ ভাগ সফলতা বা ব্যর্থতা নির্ধারিত হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে থাকলে ব্যর্থতার খতিয়ান আরও সরাসরি তুলে ধরা যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।