ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহ সংরক্ষণ ব্যবস্থায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ৪০টি মরদেহ ধারণক্ষম মরচুয়ারিতে হঠাৎ ত্রুটি দেখা দেওয়ায় লাশ সংরক্ষণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে মর্গের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও বিকল থাকায় সেখানে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
ঢামেক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মর্গে সাতটি মরদেহ রয়েছে। এগুলো আগামীকাল আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত তিন দিনে ১৮টি মরদেহ আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম নিয়ে দাফন করেছে।
ফরেনসিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ঢামেকের মর্গে দীর্ঘদিন ধরেই মরদেহ সংরক্ষণ ব্যবস্থায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পুরোনো পাঁচটি মরচুয়ারি বহু বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমানে যে মরচুয়ারিটি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিতেও ত্রুটি দেখা দেওয়ায় লাশ সংরক্ষণে চাপ তৈরি হয়েছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান কাজী গোলাম মোকলেছুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যবহৃত মরচুয়ারিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মরদেহ সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আগেও এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, পুরোনো পাঁচটি মরচুয়ারি বহু বছর ধরে অচল। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগ থেকেই সেগুলো বিকল অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামতের কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মর্গে এমন ত্রুটি দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে মরদেহ সংরক্ষণ, শনাক্তকরণ ও হস্তান্তর কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অজ্ঞাত মরদেহ, আইনি প্রক্রিয়াধীন লাশ ও দাফনের অপেক্ষায় থাকা মরদেহ সংরক্ষণে জটিলতা আরও বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত মরচুয়ারি মেরামত, বিকল এসি চালু এবং পুরোনো সংরক্ষণ ইউনিটগুলো সংস্কার জরুরি। তা না হলে মর্গের পরিবেশ আরও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠতে পারে।