সবচেয়ে ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রেও আইনের শাসন, যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধিত্বের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনপ্রিয়তার চেয়ে ন্যায়, যুক্তি ও আইনের আলোকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড লিগ্যাল স্টাডিজ সিএএলএস ‘বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড মামলায় আইনগত প্রতিনিধিত্ব’ বিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে মৃত্যুদণ্ড বিলোপ হলেও বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস অপরাধে সমাজ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে। তবে অপরাধের ধরন যাই হোক, প্রত্যেক অভিযুক্তের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
রামিসা হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আসামি গ্রেফতার, দ্রুত তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্নের মাধ্যমে সরকার আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার দেখিয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় খরচে অভিযুক্তের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়াও নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা থাকলেও সরকার আইনের মৌলিক নীতি থেকে সরে যায়নি। কারণ ন্যায়বিচারের জন্য অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকা জরুরি।
তিনি জানান, বিচারপ্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় লিগ্যাল এইড কমিটি শক্তিশালী করা হয়েছে। মামলা জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ও মধ্যস্থতা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ একরামুল হক, অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা, অধ্যাপক মাহবুবর রহমান ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন বক্তব্য দেন।