রাজধানীর উত্তরার সিরাজ মার্কেট এলাকায় এক শোকে ভরা ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সাত মাস বয়সী শিশু রাফা মনিকে তার বাবা কবির ইসলাম আছড়ে মেরে হত্যা করেছেন। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) মামলার এজাহার আদালতে আসে এবং ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান এজাহার গ্রহণ করে দ্রুত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, দুই বছর আগে কবিরের সঙ্গে লিমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে জন্ম নেয় রাফা মনি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কবির দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং নিয়মিত স্ত্রীকে মারধর ও গালিগালাজ করতেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে পারিবারিক বিরোধের এক পর্যায়ে কবির অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে তার নানী সারমীন আক্তারের কোলে থাকা মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে মাথার উপর থেকে রাস্তায় আছাড় মারে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু দুপুর আড়াইটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার সময় শিশুর মা লিমা আক্তার বাবার অসুস্থতার কারণে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এই ঘটনায় রাফা মনির নানী সরমীন আক্তার শুক্রবার তুরাগ থানায় কবিরকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তুরাগ থানার এসআই মেহেদী হাসান ফয়সাল জানিয়েছেন, কবিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলছে। আদালত দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যাতে শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
এই হত্যাকাণ্ড সামাজিক মাধ্যমে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীতে ব্যাপক শোক ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সমাজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু ও মাতৃসুরক্ষার ক্ষেত্রে সঠিক আইন প্রয়োগ ও সময়মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
শিশুদের নিরাপত্তা ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত দপ্তরগুলোর জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া, পারিবারিক হিংসা ও মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সামাজিক পদক্ষেপ ও সচেতনতা বাড়ানোও প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হচ্ছে।এই ঘটনায় জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রত্যাশা করছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে শিশুর উপর ঘটে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করা যায়।