চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদালত দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত সোমবার (২০ জুলাই) রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হাসান শেখ বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।
মামলায় বলা হয়, ২০২২ সালের ১৬ মার্চ শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী রাজিয়া খাতুন নিখোঁজ হয়। পরদিন একটি বাঁশঝাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় রাজিয়ার পরিবার হাসান শেখকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত সোমবার ফাঁসির দণ্ড প্রদান করেন।
অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলার শ্রীকোল গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আবুল হোসেনকেও আদালত মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। এছাড়া তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। আদালত উভয় আসামিকে কারাগারে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর জীবননগরের গোয়ালপাড়া এলাকায় মরিয়ম ও অন্য কয়েকজন শিশু মাঠে শাক তুলতে যায়। এসময় এক ব্যক্তি কৌশলে মরিয়মকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ এবং হত্যা করে। পরিবার মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশিট জমা দেয়। আদালতে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
উভয় ঘটনার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আদালতের মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। এটি শিশুদের নিরাপত্তা ও ন্যায়ের দাবি বাস্তবায়নে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্ব এবং আদালতের ভূমিকা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।
এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ন্যায় ও সুরক্ষার প্রত্যাশা রয়েছে। বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো সংবেদনশীল অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর আইন প্রয়োগের প্রমাণ এই রায়।