রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন নারীসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিনভর যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
গ্রেফতাররা হলেন ইয়ার হোসেন, মোরশেদা বেগম, পিংকী আক্তার, উর্মি আক্তার, সবুজ, মো. জাকির, মো. ফরহাদ, মো. রাসেল, সাদ্দাম হোসেন, রবিউল ইসলাম রকি, মনির হোসেন, জাকির হোসেন, মো. শাকিল হোসেন, মাইদুল ইসলাম, মো. মনিরুজ্জামান বাবু, মহিদুল ইসলাম ও মাসুদ হালাদার। তাদের বয়স ২০ থেকে ৫৭ বছরের মধ্যে।
পুলিশ জানায়, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমন কার্যক্রম জোরদার করতেই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নিয়মিত মামলার আসামি ছাড়াও আদালতের পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
ডিএমপি জানায়, যাত্রাবাড়ী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই, মাদক, চুরি ও অন্যান্য অপরাধ ঠেকাতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্পটে তল্লাশি, পরিচয় যাচাই ও সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গ্রেফতারদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। যাদের বিরুদ্ধে আদালতের পরোয়ানা রয়েছে, তাদের আদালতে পাঠানো হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেসব বিষয়ে আইন অনুযায়ী মামলা ও তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।
ডিএমপি কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় থানা পুলিশ, গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম সমন্বিতভাবে চালানো হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যাত্রাবাড়ী রাজধানীর ব্যস্ত প্রবেশপথ হওয়ায় এখানে বাস টার্মিনাল, বাজার, আবাসিক এলাকা ও মহাসড়ককেন্দ্রিক মানুষের চাপ বেশি। এই সুযোগে অপরাধীরা ভিড়ের মধ্যে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তাই নিয়মিত অভিযান হলে অপরাধপ্রবণতা কমবে বলে তারা আশা করছেন। পুলিশও বলছে, শুধু গ্রেফতার নয়, অপরাধের উৎস শনাক্ত করে নজরদারি বাড়ানোই এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য এলাকাবাসীর সহায়তা ও দ্রুত তথ্য দেওয়াকেও গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। অভিযান চলবে নিয়মিত।