চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাত মামলার রায় হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর আসামিদের যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
আইনমন্ত্রী জানান, জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে এখন পর্যন্ত ৮০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটির রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৭৩টি মামলার কার্যক্রম চলছে। চলমান মামলাগুলোর মধ্যে ২২টি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ৫১টি তদন্তাধীন।
মন্ত্রী আরও জানান, এসব মামলায় মোট আসামি ৪৬৩ জন। তাদের মধ্যে গ্রেফতার আছেন ১৭৪ জন এবং পলাতক ২৮৮ জন। একজন আসামি মারা গেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ২ হাজার ৬২০টি বিচারকের পদের বিপরীতে ১ হাজার ৯৬৪ জন কর্মরত আছেন। শূন্যপদে বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। সরকার সম্প্রতি ৬৫০টি সিভিল জজ ও সিনিয়র জজ আদালত, ৪০৬টি যুগ্ম দায়রা জজ আদালত এবং ২০৪টি অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে।
তিনি আরও জানান, পারিবারিক আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৩০টি। দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ১৬৩টি পারিবারিক আদালত ও ৬৫টি পারিবারিক আপিল আদালত রয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক কারণে দায়ের হওয়া ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিএনপি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।
এদিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী জানান, আগামী ছয় মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি, এক বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং পাঁচ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা হবে। সরকারি কর্মচারীদের মোট শূন্যপদের সংখ্যাও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। বিভিন্ন শ্রেণিতে এসব পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এতে প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।