মেঘনা–গোমতী সেতুর টোল আদায় চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর এ আদেশ দেন। নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন তারিখ ধার্য করা হয় বলে আদালত সূত্র জানায়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক প্রক্রিয়ায় মেঘনা–গোমতী সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের প্রচলিত টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই এ চুক্তি সম্পাদন করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে মোট টোল আদায়ের ১৭.৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪৮৯ কোটি টাকা গ্রহণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। দুদকের দাবি, একই ধরনের সেবায় পূর্ববর্তী সময়ের ব্যয়ের তুলনায় এই চুক্তিতে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, তুলনামূলক অন্যান্য প্রকল্পে একই ধরনের সেবা অনেক কম ব্যয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সেই হিসাব বিবেচনায় রাষ্ট্রের প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছে দুদক।
গত বছরের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সচিব ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
আগামী ২০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।