হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডার কার্যক্রমে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা ঘুস দাবি করা হয়েছিল।
মামলা দায়ের করেছেন রিচি গ্রামের ঠিকাদার মো. জুবাঈদ মিয়া। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম তাকে অফিসে ডেকে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুস দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতির কারণে কাজটি অন্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়। মামলার সাক্ষী, সাবেক কাউন্সিলর টিপু আহমেদ জানিয়েছেন, টেন্ডারের অনুমোদন ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
আসামিরা হলেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান খান এবং দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। ফরিদুল ইসলাম জানান, তিনি ইতিমধ্যেই ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়েছেন। নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জুম্মন শাহ। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না।
মামলার বিবরণে আরও উল্লেখ আছে, এলজিইডির আওতায় নবীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ী-বুরিনাও সড়কের উন্নয়ন, ইউ-ড্রেনেজ, বক্স কালভার্ট ও প্রতিরক্ষা কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম, জালিয়াতি ও কারসাজি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর মতে, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে বঞ্চিত করে অন্য প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ২৮ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসন ও আদালত অভিযোগগুলো তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেবে।
এ ঘটনা এলজিইডি ও স্থানীয় ঠিকাদারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় জনগণ আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের খুঁজে বের করে তারা ন্যায্য শাস্তি পাবেন।