হাইকোর্ট মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা সীমিত করার বিধান সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রুল জারি করেছে। আদালত জারি করা রুলে শ্রম আইনের ৪৬(১) ও ৪৬(২) ধারা এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের (বিএসআর) ১৯৭ (১) ও (১এ) বিধি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এই রুল সোমবার (২৯ জুন) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চের নির্দেশনায় জারি করা হয়।
রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান, যাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান, মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান ও ইফাত হাসান শাম্মি। রুলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, নারী ও শিশুবিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, স্বাস্থ্য সচিবসহ মোট ১৩ জনকে বিবাদী হিসেবে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে ১৫ জুন বাংলাদেশের কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনস্বার্থমূলক এই রিট দায়ের করা হয়। রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা কোনো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নয়; বরং এটি মা ও নবজাতকের মৌলিক স্বাস্থ্য, মর্যাদা, সমতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত।
রিটে বলা হয়েছে, তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে এই অধিকার থেকে একজন কর্মজীবী নারীকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানপরিপন্থী। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা প্রয়োগ হওয়ায় কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, যা সমতা ও আইনের সমান সুরক্ষার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, বাংলাদেশের সকল কর্মজীবী নারীর জন্য বৈষম্যহীন ও সমান মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করতে এই রিট করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাতৃত্ব কোনো শাস্তির বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়। মামলার চূড়ান্ত রায় দেশের মাতৃত্বকালীন অধিকার, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা এবং শ্রম অধিকার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
এ রুল কর্মজীবী নারীদের জন্য নিরাপদ ও সমান মাতৃত্বকালীন সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।