ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। এই আদেশের সঙ্গে আদালত রুল জারি করেছে, কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না তা জানার জন্য। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু, সাঈদ আহমেদ রাজা ও জাহাঙ্গীর হোসেন।
আদালতের আদেশের পর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু জানান, যাত্রাবাড়ীর এই মামলাসহ মোট আটটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক জামিন পেয়েছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা নেই এবং গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। ফলে এখন তার কারামুক্তিতে কোনো আইনি বাধা আর নেই।এর আগে, গত ২৩ মে তিনি পৃথক সাতটি মামলায় জামিন পেয়েছিলেন। তবে ওই দিনই তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন যাত্রাবাড়ীতে খোয়াইব নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা নতুন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান খোয়াইব। নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক ওই মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে কারাগারে ছিলেন।
আদালত রায় প্রকাশের পর দেখা যায়, মামলার পেছনের প্রেক্ষাপটও বিবেচনা করা হয়েছে। খোয়াইব হত্যা মামলার মূল অভিযোগে বলা হয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় খায়রুল হককে অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করে হত্যার নির্দেশ, আন্দোলন দমনে উসকানি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা করার দাবি করা হয়েছে। যদিও আসামিপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতে উপস্থিত দুই সাক্ষীর মাধ্যমে তাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই জামিনে খায়রুল হকের মুক্তি প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং আইনগত বাধা কমবে। আদালতের এই পদক্ষেপ দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সংবিধান অনুযায়ী চলমান মামলার প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি নিশ্চিত করছে। এতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি উচ্চ পর্যায়ের আইনজীবীদের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ, এই জামিন দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা এবং এটি বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় করবে। সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের ব্যক্তিগত ও আইনগত পরিস্থিতি এখন আরও সুসংহত হবে এবং তিনি প্রাপ্ত জামিনের মাধ্যমে কার্যত মুক্তি ভোগ করতে সক্ষম হবেন।