পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বুধবার (১ জুলাই) ঢাকাস্থ ইতালি দূতাবাসে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বলেন, ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ কোনোভাবেই বাংলাদেশ সমর্থন করে না। এই বক্তব্য তিনি হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার ১০ম বার্ষিকী উপলক্ষে নিহতদের স্মরণে জানান।
তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ২২ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ইতালির নাগরিক, ৭ জন জাপানের নাগরিক, ১ জন ভারতের নাগরিক এবং ৩ জন বাংলাদেশি ছিলেন। এছাড়া একজন বাংলাদেশি বংশভূত আমেরিকান নাগরিকও হতাহত হন। এই হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও গভীর শোক সৃষ্টি করে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোলি আর্টিজান বেকারির হামলাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় আখ্যায়িত করে বলেন, এমন কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা যেন আর কখনও না ঘটে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সবসময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। হামলার পর দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সন্ত্রাস দমন কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কাজ করছে। বাংলাদেশের উদ্যোগে জঙ্গিবাদ রোধে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা হচ্ছে।
স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তারা। নিহতদের স্বজন ও হলি আর্টিজানে বেঁচে থাকা জিম্মিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেশের জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শান্তি ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।