জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরানের উদ্দেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি দেশের রাজধানী থেকে তেহরানের উদ্দেশে রওনা দেন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। খামেনি ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর পরিবর্তিত শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮০ সালে অল্প সময়ের জন্য তিনি ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের সূচনার পর খামেনি ইসলামী বিপ্লবী বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং পরবর্তীতে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে।
জানাজায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করছেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অংশগ্রহণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
স্পিকারের তেহরান যাত্রা চলতি বছরের ৪ জুলাই দেশে ফেরার সঙ্গে শেষ হবে। এই সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন মাত্রা তৈরি হবে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে স্পিকারের এই পদক্ষেপ ইরানের ওপর দেশটির শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে। এছাড়া, উভয় দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা অর্থনীতি, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও প্রসারিত করতে সহায়তা করবে।
এই সফর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে এবং দুটি দেশের মধ্যে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সমন্বয়কে নতুন মাত্রা দেবে।