ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৮৫ টাকা থেকে ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিইআরসি নতুন এই মূল্য ঘোষণা করে জানায়, নির্ধারিত নতুন দাম একই দিন সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে। ফলে দেশের বাজারে এলপি গ্যাস ব্যবহারকারী সাধারণ ভোক্তারা তুলনামূলকভাবে স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কমিশনের ঘোষণায় আরও বলা হয়, অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে কমিয়ে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবহন খাতে ব্যবহৃত এই জ্বালানির দাম কমায় বাস, গাড়ি ও সিএনজি-চালিত যানবাহনের পরিচালন ব্যয়ও কিছুটা কমতে পারে।
এর আগে চলতি বছরের ২ জুন ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তবে নতুন দফার এই সমন্বয়ে আরও বড় ধরনের হ্রাস আনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপি গ্যাসের মূল্য পরিবর্তন, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয়ের ওঠানামার কারণে দেশীয় বাজারে নিয়মিতভাবে দাম সমন্বয় করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম কিছুটা কমার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ভোক্তা পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের দামের ওঠানামা নিয়ে অসন্তোষ ছিল। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রান্নার খরচে এলপি গ্যাস একটি বড় চাপ তৈরি করেছিল। নতুন এই মূল্য হ্রাস কিছুটা হলেও সেই চাপ কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে যদি আবার দামের অস্থিরতা দেখা দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে দেশীয় বাজারেও দাম পুনরায় পরিবর্তন হতে পারে।
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় এবং ডিস্ট্রিবিউশন খরচ বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিতভাবে এলপি গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হয়। ভোক্তা ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ অব্যাহত থাকবে।