স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের উন্নয়ন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও পল্লীকেন্দ্রিক। শহরকেন্দ্রিক অগ্রগতি চললেও গ্রাম পিছিয়ে থাকলে প্রকৃত অর্থে জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সিরডাপ দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে আঞ্চলিক সহযোগিতা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সদস্য দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ২১৫টি গবেষণা কর্মসূচি এবং ৩৫০টি সক্ষমতা উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। পাশাপাশি ৮ হাজারের বেশি সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার অংশীজনকে নীতিগত সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রামীণ উন্নয়ন এখন জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর, খাদ্য নিরাপত্তা ও যুব বেকারত্বের মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিরডাপ জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করছে। একই সঙ্গে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আরও দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে এবং বর্তমানে সিরডাপের গভর্নিং কাউন্সিলের নেতৃত্ব দিচ্ছে দেশটি। তিনি জানান, বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গ্রামীণ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের মাধ্যমে ১২ লাখের বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন। পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও কৃষক পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন ও সেচ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।