হাইকোর্টের রায় যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অনুচ্ছেদ অবৈধ ঘোষণা করেছে, সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রায় ঘোষণা করবে।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগ শুনানি পরিচালনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, রিটের পক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া, আর জামায়াতের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে। আদালত জানিয়েছে, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং বিগত নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি। হাইকোর্টের বেঞ্চে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী রায় ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি; বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে জাতীয় সংসদ সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারবে। রায়ে গণভোটের বিধানও পুনর্বহাল করা হয়েছে।
সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া আপিল দায়ের করেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিলে পক্ষভুক্ত হয়েছেন। এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরাম ও চার আবেদনকারী ইন্টারভেনর হিসেবে রয়েছেন।