সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার আর নেই। রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দীর্ঘদিন স্থায়ী কমিটির দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার (বর্তমান পঞ্চগড় জেলার) তেতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ইতিহাসে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর এলএলবি সম্পন্ন করেন। ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল-ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে সুনামের সঙ্গে আইনচর্চা শুরু করেন।
রাজনৈতিক জীবনে প্রথমে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন।
স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনায় তার নিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের নৈপুণ্য এবং সংসদীয় রীতি-নীতি অনুসরণ বিশেষভাবে পরিচিত ছিল। আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়েও তার আগ্রহ ছিল এবং তিনি আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্র আইন, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেগম নুর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। দুই ছেলেই আইন পেশায় যুক্ত এবং ব্যারিস্টার হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে আইন চর্চা করছেন। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনজীবী জীবনে দেশের আইন, সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।