চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যা: ৫০ জনের প্রাণহানি, হাজারো ক্ষতিগ্রস্ত

চট্টগ্রামে হাজারো মানুষ পানিবন্দি

চট্টগ্রাম বিভাগে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজানের পানিতে সৃষ্ট বন্যার কারণে পরিস্থিতি দারুণ মারাত্মক হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভাগীয় কার্যালয় থেকে জানা গেছে, বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৫০ জনে পৌঁছেছে। এই সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ৩৪,৭২৩ জন মানুষ, যারা বিভাগের ৩ হাজার ৯৪১টি আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন।

বন্যার প্রভাবে ৭৯,১৮৭টি বসতঘর, ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩,৮৪০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩৩৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার মোট ৪০৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি, ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কক্সবাজারে ৭৪টি, রাঙামাটিতে ৪২টি, খাগড়াছড়িতে ৪১টি এবং বান্দরবানে ৩৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রাণহানির বিষয়েও কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। কক্সবাজারে মারা গেছেন ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জন। এছাড়া রাঙামাটি ও কক্সবাজারে একজন করে মোট দুইজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম জেলায়। জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন ২২,৬০০ জন মানুষ। কক্সবাজারে ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১,৫৮০ জন, বান্দরবানে ২০০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬,২৫০ জন, রাঙামাটির ৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩,৯০৩ জন এবং খাগড়াছড়ির ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৮১ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘরের সংখ্যা কক্সবাজারে ৪৮,০৬৩টি, বান্দরবানে ১৫,৩৩০টি, চট্টগ্রামে ১৪,২৮১টি, রাঙামাটিতে ৪৭৩টি এবং খাগড়াছড়িতে ১,০৪০টি। এছাড়া জরুরি ত্রাণ ও সহায়তার অংশ হিসেবে বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মোট ৯২৩ মেট্রিক টন চাল, ৭,২৮১ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা নগদ বিতরণ করা হয়েছে।

সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসন প্লাবিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সেনা, বিজিবি ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা সশক্তভাবে কাজ করছেন, যাতে দুর্গত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসা সুবিধা পায়। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সেতু, রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য প্রশাসন কাজ করছে।

অভ্যন্তরীণ নদী ও পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করলেও আশঙ্কা রয়েছে, বন্যার পরও নতুনভাবে ভূমিধস হতে পারে এবং পুনরায় প্লাবন সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয় করার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম কার্যক্রম চালু রেখেছে। জনগণকে নিরাপদে সরানোর পাশাপাশি আবহাওয়া ও পানি পরিমাণের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে এই বন্যা শুধু মানুষের জীবনযাত্রা নয়, বরং অর্থনৈতিক ক্ষতি, শিক্ষার ব্যাহত হওয়া এবং সামাজিক অবকাঠামোর ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় আশা করা হচ্ছে, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন স্বাভাবিক হবে।

সর্বশেষ

সরকারি হাসপাতালগুলোতে এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ রোগনির্ণয় যন্ত্র থাকলেও সেগুলোর…

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা…

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় ১০ দিনের…

বাবা-মায়ের সম্পত্তির সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পত্তি হস্তান্তর…

রাজধানীতে নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে…

সর্বাধিক পঠিত

সরকারি হাসপাতালগুলোতে এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ রোগনির্ণয় যন্ত্র থাকলেও সেগুলোর…

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা…

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় ১০ দিনের…

বাবা-মায়ের সম্পত্তির সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পত্তি হস্তান্তর…

রাজধানীতে নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে…

আরো পড়ুন