মাত্র ১৩ বছর বয়সে মা হয়েছেন অনামিকা জুঁই। বাল্যবিয়ের কারণে অল্প বয়সেই সংসার ও মাতৃত্বের দায়িত্বে পড়া এই কিশোরী মায়ের কাছ থেকে ৭ মাসের শিশুসন্তানকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আইনি সহায়তা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে আড়াই মাস পর সন্তান ফিরে পেয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, অনামিকা জুঁইয়ের মা সৌদি আরবে চাকরি করেন এবং বাবা অটোরিকশা চালক। ১২ বছর বয়সে ফেসবুকের মাধ্যমে ২২ বছর বয়সী শাকিল নামে এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হলে জুঁই বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে তাকে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর তাদের একটি সন্তান জন্ম নেয়। বর্তমানে শিশুটির বয়স ৭ মাস। তবে সন্তান জন্মের পর জুঁইয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং শিশুটিকে নিজেদের কাছে রেখে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
শিশুটি যেন মায়ের কাছে ফিরতে না পারে, সে জন্য শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আদালতে গার্ডিয়ানশিপ মামলাও করা হয়। এরপর উপায় না দেখে জুঁই আইনি সহায়তার জন্য লিগ্যাল এইডের দ্বারস্থ হন।
ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার বিষয়টি জানার পর উদ্যোগ নেন। পরে লিগ্যাল এইড ও চকবাজার থানা পুলিশের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়।
মঙ্গলবার দুই পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ৭ মাস বয়সী শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন। দীর্ঘ আড়াই মাস পর সন্তানকে ফিরে পান কিশোরী মা অনামিকা জুঁই।
এই ঘটনা আবারও বাল্যবিয়ে, সামাজিক নিরাপত্তা ও শিশু অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আইন অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে ও মাতৃত্ব কিশোরীদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক জীবনে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।