এসএসসিতে জিপিএ-৫ না পাওয়ায় যার পড়ালেখা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে ছিল, সেই সাইফুল্লাহ মুনছুর এখন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের আমিনী গ্রামের আব্দুল জব্বার মোড়লের ছেলে সাইফুল্লাহ মুনছুরকে গত ২২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় প্রভাষক হিসেবে সুপারিশ করা হয়।
পরিবার ও পরিচিতজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোটবেলায় ডানপিটে স্বভাবের ছিলেন সাইফুল্লাহ। নিজের খেয়ালখুশি মতো চলার কারণে এসএসসিতে প্রত্যাশিত ফল পাননি। জিপিএ-৫ না পাওয়ায় তার বাবা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মালয়েশিয়ায় কাজের ভিসায় পাঠানোর সিদ্ধান্তে অনড় হন। তবে সেই সময়ই সাইফুল্লাহ জেদ করে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন এবং নতুন করে পড়ালেখায় মন দেন।
পরে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। ভালো ফলাফলের জন্য সাধারণ বিভাগে বৃত্তিও পান। এরপর ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিনে ভর্তি হন। একই বিভাগ থেকে ২০২৪ সালে ৩.৬৬ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন সাইফুল্লাহ।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি প্রথমে নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনায় খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এবার নিজের পড়া বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি।
বর্তমানে সাইফুল্লাহ মুনছুর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধীনে ‘বাংলাদেশের উপন্যাসে মিথ ও কিংবদন্তি’ বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখিতেও তার পরিচিতি রয়েছে। বিভিন্ন জার্নালে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় দাঁড়িকমা প্রকাশনী থেকে তার কবিতার বই ‘তোমার শহরে কারফিউ’ প্রকাশিত হয়।
এসএসসির ফল নিয়ে হতাশা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া—সাইফুল্লাহর পথচলাকে অনেকে অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।