ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের পূর্বঘোষিত কর্মী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পদপ্রত্যাশী ও সাধারণ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং সম্মেলনে যোগদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ময়মনসিংহ-১১ আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছেন।
ভুক্তভোগী নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভালুকা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের কর্মী সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। এর আগের রাতে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী শাহরিয়ার অলিউল্লাহ অনন্তের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তাকে সম্মেলনে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করে বলে অভিযোগ করেন তার সমর্থকরা।
শনিবার সকালে অনন্ত তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ভালুকা পাঁচ রাস্তার মোড়ে জড়ো হলে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার পর অনন্ত ও তার সমর্থকরা জীবন বাঁচাতে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশ্রয় নেন।
উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী ও বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফ হাসানের সমর্থকদের ওপরও হবিরবাড়ী ইউনিয়নের আল মদিনা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সম্মেলনে যাওয়ার জন্য ভাড়া করা ১৪টি বাসের চালকদের হুমকি দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে নেতাকর্মীরা দাবি করেন।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রাফিউল্লাহ চৌধুরীর সমর্থকদের দুটি ট্রাক পাঁচ রাস্তার মোড়ে আটকে ভাঙচুর করা হয়। তার দাবি, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের বাধা দেন। এ সময় তার বাবা সাইফুল্লাহ চৌধুরীর ওপরও হামলা করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন, প্রতিটি পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কিছু ছোটখাটো হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।