নিজস্ব প্রতিবেদক
ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করেছে চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেট। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম ভ্যাটের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আলী আক্কাস।
চট্টগ্রাম ভ্যাট অফিস জানায়, চট্টগ্রামে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালান ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা। অভিযানের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি, দলিলপত্র ও ব্যবসায়িক রেকর্ড জব্দ করা হয়। পরে এসব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভ্যাট বিভাগের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ ভ্যাট পরিশোধ না করেই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তদন্তে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে মামলায় মোট প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাজস্ব বিভাগের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠানটির ১৬টি কার্যালয় ও হাব রয়েছে। কিন্তু এসব কার্যালয় দীর্ঘদিন ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বারবার চিঠি দেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন না নেওয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তাদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অডিট কার্যক্রমও চলছে।
সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আলী আক্কাস বলেন, শুধু চট্টগ্রামেই যদি ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ঢাকাসহ সারাদেশের শাখাগুলোতেও বড় ধরনের ফাঁকির তথ্য মিলতে পারে। তিনি জানান, সারাদেশে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
ভ্যাট কর্মকর্তারা বলছেন, নিবন্ধন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা এবং সেবার বিপরীতে ভ্যাট আদায় করেও সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া গুরুতর অপরাধ। তদন্তে আরও তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে কুরিয়ার খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।