বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। তাকে বা বিএনপিকে খুশি করতে মিথ্যা সংবাদ লেখার প্রয়োজন নেই। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সত্য সংবাদ পরিবেশন করার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে যশোরে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ আয়োজিত মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্টচেক ও এআই ব্যবহারবিষয়ক তিন দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো পরমতসহিষ্ণুতা। গণমাধ্যম দায়িত্বশীল হলে দেশ এগিয়ে যাবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবার অতীতে সবচেয়ে বেশি গণমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন। তবুও তিনি প্রতিশোধের পথে যাননি, বরং সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়ে অনেক গণমাধ্যমকর্মীকে মিথ্যা সংবাদ লিখতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাই এখন সত্য সংবাদ পরিবেশনই সবচেয়ে জরুরি। ভুল তথ্য, অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত যশোর গড়তে প্রশাসন এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কারা মাদক ও সন্ত্রাসে জড়িত, সেই নাম তিনি দিলে তাতে রাজনৈতিক রঙ লাগানো হতে পারে। তাই প্রশাসনের নিজস্ব সোর্স এবং গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী চোখে অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
যশোর প্রেস ক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক শান্তুনু ইসলাম সুমিত উপস্থিত ছিলেন।
পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রেস ক্লাব সভাপতি এসএম তৌহিদুর রহমান। তিন দিনের কর্মশালায় দুটি ব্যাচে জেলা ও উপজেলার ৭০ গণমাধ্যমকর্মী অংশ নিচ্ছেন।
আয়োজকেরা জানান, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরি, সংবাদ যাচাই, ভুয়া তথ্য শনাক্ত এবং সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে হাতে-কলমে ধারণা পাবেন। জেলার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির যুগে দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই প্রশিক্ষণকে সময়োপযোগী উদ্যোগ বলা হয়।