প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে আজ মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন তারেক রহমান। মালয়েশিয়া সফর শেষে ২৩ থেকে ২৬ জুন তিনি চীন সফর করবেন। দুই দেশ মিলিয়ে ছয় দিনের এ সফরকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরে দুই দেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি নোট অব এক্সচেঞ্জ সই হতে পারে।
মালয়েশিয়া সফরের প্রধান আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে থাকবে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা। পাশাপাশি অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতার সুযোগ, স্বচ্ছ কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থা এবং অভিবাসন খাতে জটিলতা কমানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা করছেন, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর এ সফর শ্রমবাজার খোলার পথে ইতিবাচক অগ্রগতি আনবে।
এ ছাড়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, হালাল পণ্য রপ্তানি, কৃষি, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ও আলোচনায় থাকবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হলে শ্রমবাজারের পাশাপাশি বিনিয়োগ প্রবাহও বাড়তে পারে।
মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী চীনের উদ্দেশে রওনা হবেন। ২৩ জুন তিনি দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এ অংশ নেবেন। পরে বেইজিংয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।
চীন সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি সহযোগিতা, চীনা শিল্প বাংলাদেশে স্থানান্তর, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয় গুরুত্ব পাবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আরসিইপি, ব্রিকস ও সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার বিষয়ে চীনের সমর্থন চাওয়া হতে পারে।
সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, উপদেষ্টারা, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল থাকবেন। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এক সফরেই শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো সহযোগিতায় অগ্রগতি আনার চেষ্টা করবে ঢাকা। বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া সফরে শ্রমিক নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। আর চীন সফরে বড় প্রকল্পের অর্থায়ন, ঋণের শর্ত এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এসব আলোচনার ফল ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সফরটি বিশেষভাবে নজরে রয়েছে এখন। ঢাকার।