হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ১৬৪ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৪৪০ জন বাংলাদেশি হাজি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫৯ হাজার ১২১ জন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২১ জুন সৌদি সময় পর্যন্ত ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ২৮ হাজার ৩৭১ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। সৌদি এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ২২ হাজার ৩০০ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৪ হাজার ৯৭ জন হাজি।
হজযাত্রীদের দেশে ফেরাতে এখন পর্যন্ত মোট ১৬৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৮৪টি ফ্লাইট। সৌদি এয়ারলাইনস ৫৮টি এবং ফ্লাইনাস ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
এদিকে হজ পালনে সৌদি আরবে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৪ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। মৃতদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে ৬৬ হাজার ৬৬৫টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ২৮৬টি সেবা দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে। শেষ ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩০ জুন।
হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, হজ অফিস, এয়ারলাইনস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ফিরতি যাত্রীদের লাগেজ, স্বাস্থ্য সহায়তা, তথ্যসেবা ও বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করতে আলাদা ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাকি হাজিদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরাতে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। পরিবারের সদস্যদেরও ফ্লাইটসূচি দেখে বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সব কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও।