নাটোরের গুরুদাসপুরে সম্পত্তির দখল নিতে বৃদ্ধ মা-বাবাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে তাদের মেয়ে এবং পুলিশ কনস্টেবল জামাতার বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে পৌরসভার চাঁচকৈড় পুরানপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ মসলেম সরকার ও তার স্ত্রী মর্জিনা বেগমকে উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী মসলেম সরকার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার মেয়ে বিউটি বেগম, জামাতা আবু সাইদ এবং সরোয়ার শাহের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন লোক হামলায় অংশ নেন। অভিযুক্ত সরোয়ার শাহের বিরুদ্ধে আগে শহরের একটি সিনেমা হল ভাঙচুরের মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মসলেম সরকার তার পাঁচ মেয়ের নামে ৫৬ দশমিক ৫০ শতক জমি শর্তসাপেক্ষে লিখে দিয়েছিলেন। দলিলে উল্লেখ ছিল, তিনি ও তার স্ত্রী জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তি তারাই ভোগদখল করবেন। সেই জায়গায় দুটি দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন।
অন্য চার মেয়ে আপত্তি না করলেও বিউটি বেগম বাড়ির পাশের ১৬ শতক জমি দখলে নিতে চান বলে অভিযোগ পরিবারের। এ নিয়ে মসলেম সরকার আদালতে বিউটির নামে দেওয়া জমির শর্ত বাতিল চেয়ে মামলা করেন, যা বর্তমানে চলমান।
অভিযোগ অনুযায়ী, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় সোমবার সকালে লোকজন নিয়ে এসে মা-বাবাকে ঘরে আটকে দোকান দুটি দখল করা হয়। ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ও কামাল হোসেন দাবি করেন, হামলায় তাদের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বিউটি বেগম বলেন, নিজের নামের জায়গা তিনি দখলে নিয়েছেন। তার স্বামী আবু সাইদ দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত আকবর আলী জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে দম্পতিকে বের করা হয়। তবে তখন কাউকে আটক করা যায়নি। অভিযোগে উল্লিখিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি, জমির দলিল, আদালতে চলমান মামলা এবং উপস্থিত লোকজনের ভূমিকা যাচাই করা হবে। ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তা চেয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের পরই দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। আইন অনুযায়ী।