বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সমান মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ভারতীয় সরকার। এই মর্যাদা বিশেষভাবে আনুষ্ঠানিক ও প্রটোকল-সংক্রান্ত অনুষ্ঠান বা আয়োজনে প্রযোজ্য হবে। মঙ্গলবারের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের সমঝোতা ও কূটনৈতিক মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দীনেশ ত্রিবেদী দুইবার ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি ১২ জুন তিনি বাংলাদেশে এসে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করবেন। এই পদক্ষেপ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
দীনেশ ত্রিবেদী পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত। তিনি আগে কংগ্রেসে ছিলেন এবং পরে ১৯৯০ সালে জনতা দলে যোগ দেন। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত রাজ্যসভায় জনতা দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর তিনি দলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক হন। ২০০২-০৮ পর্যন্ত তিনি তৃণমূলের এমপি এবং পরবর্তীতে ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কিছুদিনে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় এবং ২০২১ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।
ত্রিবেদী বাংলায় কথা বলতে পারেন এবং দুই বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিষয়ে সম্যক ধারণা রাখেন। এছাড়া তিনি সেতারবাদক হিসেবেও পরিচিত। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও কূটনৈতিক দক্ষতা ভারতের নতুন হাই কমিশনার হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ত্রিবেদীর নিয়োগ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনঃস্থাপন ও সহযোগিতা সম্প্রসারণে নতুন পথ খুলবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রের সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনসাধারণের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রও তৈরি হবে।