সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, কিডনি, লিভারসহ অন্যান্য অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, “কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মতো অঙ্গ অন্য দেশ থেকে এনে বাংলাদেশে স্থাপন করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের নিজের সক্ষমতা উন্নয়ন অপরিহার্য।”
শনিবার রাজধানীর কিডনি ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। ডা. জাহিদ জানান, কিডনি প্রতিস্থাপনে ইতোমধ্যেই কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে লিভার প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
তিনি কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “তাদের সফর শুধুমাত্র সৌজন্য নয়, বরং জ্ঞান বিনিময় এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি করবে। তবে শেষ দায়িত্ব আমাদের। জনগণকে অঙ্গদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, অঙ্গদান কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে কিছু আইনি পরিবর্তন আনা হয়েছে, তবে আরও কাজ বাকি। বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি, তাই চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এত বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। এজন্য কিডনি রোগ প্রতিরোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
ডা. জাহিদ নেফ্রোলজিস্ট, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “উন্নত দেশগুলোর সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব হলেও নেতৃত্ব আমাদেরই নিতে হবে। একটি জাতীয় সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে যাতে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ ও শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগের সংখ্যা কমানো যায়।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে তিনি জানান, এ উদ্যোগ শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়, বরং পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-কোরিয়া ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স এই সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব আরও জোরদার করবে।