বাংলাদেশ ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশের মধ্যে স্থান অর্জন করেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী দেশের মর্যাদা ধরে রেখেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বে মোট মৎস্য ও মৎস্যচাষের উৎপাদন ছিল ২৩ কোটি ৫০ লাখ টন। এর মধ্যে জলজ প্রাণীর উৎপাদন ১৯ কোটি ৫০ লাখ টন এবং শৈবাল উৎপাদন ৪ কোটি টন। সামুদ্রিক জলসীমা থেকে উৎপাদিত মাছের পরিমাণ ছিল ৬১ শতাংশ, বাকি ৩৯ শতাংশ অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে এসেছে।
অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে শীর্ষে ভারত এবং দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক উৎপাদনের মধ্যে এশিয়ার অবদান ৭৬ শতাংশ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ৮ শতাংশ এবং ইউরোপের ৭ শতাংশ।
বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশ হল চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ। চীন বৈশ্বিক উৎপাদনের ৫৬ শতাংশ সরবরাহ করেছে, ভারত ১২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৬ শতাংশ, ভিয়েতনাম ৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৩ শতাংশ। এই পাঁচ দেশ মিলিয়ে বিশ্বের ৮২ শতাংশ মাছ উৎপাদন করেছে।
মৎস্যচাষে উৎপাদিত জলজ প্রাণীর দুই-তৃতীয়াংশই অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৯ শতাংশ পাখনাযুক্ত মাছ, ৯ শতাংশ খোলসযুক্ত জলজ প্রাণী এবং বাকি অংশ জলজ কচ্ছপ, ব্যাঙ, মোলাস্ক ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী। সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মৎস্যচাষে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন জলজ প্রাণী উৎপাদিত হয়েছে, যার মধ্যে ৫৩ শতাংশ মোলাস্ক, ২৪ শতাংশ পাখনাযুক্ত মাছ, ২২ শতাংশ খোলসযুক্ত জলজ প্রাণী এবং ২ শতাংশ অন্যান্য সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী।
বাংলাদেশের এই অর্জন দেশের মৎস্য শিল্প ও অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে পাখনাযুক্ত মাছের চাষকে গুরুত্ব দিয়েছে। বিশ্বে মাছের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বাংলাদেশে মৎস্যচাষ শিল্পের ভূমিকা শক্তিশালী এবং দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।