বাংলাদেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অবনতি এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর চাপের প্রসঙ্গ তুলে বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, এই সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিতভাবে কাজ করা জরুরি। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোডে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আগ্রাসনরোধ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, অপসাংবাদিকতার কারণে বর্তমান সময়ে কিছু বোগল সম্পাদক ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছেন। তারা পত্রিকা ছাপিয়ে, সেটি বগলে নিয়ে সচিবালয়সহ বিভিন্ন দফতরে তদবির বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছে। এসব হলুদ সাংবাদিকতার ফলে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যা ইচ্ছা তাই লিখে দেওয়া সাংবাদিকতা গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের বিবেকসম্পন্ন হতে হবে, এবং সত্য প্রকাশে রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা দেবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী ভারতের গণমাধ্যম ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। ২০২৫ সালে ১৪০টি ভুয়া প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএফইউজ মহাসচিব।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ বাছির জামাল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র গঠনে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপমুক্ত পরিবেশ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থা শক্তিশালী করা সম্ভব।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা সবাই এই জোর দেন যে, স্বাধীন ও দায়বদ্ধ সাংবাদিকতা সমাজের জন্য অপরিহার্য এবং গণতন্ত্রের স্থায়িত্বে মূল ভূমিকা রাখে।