জাতীয় সংসদে বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার অগ্রগতি নিয়ে ‘আন্ডারটেবিল সমঝোতা’ হয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, যদি কোনো সমঝোতা না হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কী বাধা রয়েছে, তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করতে হবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। আলোচনার সময় তিনি করনীতি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, যাঁরা বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয়। তিনি বলেন, দেশে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, ঋণখেলাপি এবং অর্থপাচারের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাঁর ভাষায়, যাঁরা জনগণের অর্থ নিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন বা ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে খেলাপি হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা বিপুল অর্থ পাচারের বিষয়টি নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে, কিন্তু সংশ্লিষ্টরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি অতীতে গণমাধ্যমের মাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য ও বয়ান তৈরি করতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, বড় করপোরেট গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত হয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বাজেট ঘোষণায় যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব আদায়ের বিষয়গুলো বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে করপোরেট কর কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, কর নীতিতে একদিকে মূল্যস্ফীতি কমানোর কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—যা সাধারণ মানুষের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে।
তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর আরোপের পরিকল্পনারও সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এসব কর শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাস্তবে প্রতিশ্রুত চাকরির অগ্রগতি কতটা হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই।