ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা, শেয়ার হস্তান্তর ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিন উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে বাজেট অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা ব্যাংকটির বর্তমান সংকট, অতীত দখল, চেয়ারম্যান-এমডি পরিবর্তন এবং আমানতকারীদের আস্থা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান ৬৮ বিধিতে নোটিশ উত্থাপন করে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার বৈধ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বন্ধ এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তার অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে জোরপূর্বক প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের সরিয়ে এস আলম গ্রুপের কাছে শেয়ার হস্তান্তর করা হয়। পরে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়ালেও আবারও পুরোনো দখলকারী চক্র সক্রিয় হয়েছে।
তিনি বলেন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়েছে এবং এমডিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। একদিনে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আমানত উত্তোলনের ঘটনাকে তিনি আস্থার সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন।
সরকারের পক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ইসলামী ব্যাংককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিপদে ফেলে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকদের টাকা তুলে নেওয়ার নজির নেই। একটি মহল ব্যাংকটিকে ব্যর্থ দেখাতে চাইছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির শ্রেণিকৃত ঋণ ৯৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণ পোর্টফোলিওর ৫১ শতাংশ। গত দুই বছরের মুনাফাকে তিনি ‘কৃত্রিমভাবে ভালো দেখানো’ বলে মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ব্যাংক বাস্তবায়ন করবে। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংকের রাজনৈতিক ব্যবহার, ঋণ বিতরণ, সিএসআর তহবিল ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্তের দাবি জানান।
আলোচনায় বিরোধী দলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সতর্ক করে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। সরকার পক্ষ গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছে।